চিকনাই নদীতে পক্ষকাল ব্যাপী নৌকা বাইচের উদ্বোধন করলেন স্কয়ারের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু

দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তা অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

পিপ : পাবনার চিকনাই নদীতে পক্ষকাল ব্যাপী নৌকা বাইচের উদ্বোধন করলেন স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক ও অ্যাটকো সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার গরুরী এলাকায় চিকনাই নদীতে নৌকা বাইচ উদ্বোধন শেষে অন্য একটি নৌকায় চড়ে বাইচ উপভোগ করেন। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বাষিকী উপলক্ষে স্কয়ার ফুড এন্ড বেভারেজের পৃষ্টপোষকতায় এই বাইচের আয়োজন। এ উপলক্ষে গরুরী বাজারে নদীপাড়ে আটঘরিয়া পৌরসভার মেয়র শহীদুল ইসলাম রতনের সভাপতিত্বে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক ও অ্যাটকো সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম। পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু, আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম, পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা, পাবনা জেলা যুবলীগ আহবায়ক আলী মতুর্জা বিশ^াস সনি, যুগ্ম আহবায়ক শিবলী সাদিক প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকার ৩২ টি নৌকা অংশ নিচ্ছে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই বাইচ শেষ হবে। শনিবার বিকেলে আটঘোরিয়া উপজেলার গোরুররীয়া ফৌলজানা ইউনিয়নের মাঝদিয়ে বয়ে চলা চিকনাই নদীতে পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ৩২ টি বাইচের নৌকা এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করেছে। উদ্বোধনী প্রতিযোগিতায় চারটি বাইচের নৌকা অংশ গ্রহন করেন। সোনার বাংলা, মায়ের দোয়া, আল্লার দান ও বাওয় খোলা এক্সপ্রেস। উদ্বোধনী বাইচে মায়ের দোয়া ও আল্লার দান এক্সপ্রেস বাইচে অংশ নেনে। প্রথমদিনের প্রতিযোগিতায় স্থানীয় আল্লারদান বাইচের নৌকা বিজয়ী হয়। প্রতিদিন বিকলে তিনটা থেকে সন্ধা পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৩ অক্টোবর শুক্রবার এই প্রতিযোগিতার সমাপ্ত হবে। ঐতিহ্যবাহী চিকনাই নদীতে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গত বছর থেকে স্কয়ার গ্রুপের পৃষ্টপোষকতায় দ্বিতীয় বারের মত এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আমন্ত্রীত অতিথিদের সাথে মাঝ নদীতে ফিটা কেটে নৌকার বাইচের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। নদীর দুই পারে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে নৌকা বাইচ দেখার জন্য। অনেকই নিজেদের ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে আসেন বাইচ স্থলে। প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে দুটি করে নৌকা বাইচে অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকায় মাঝি মাল্লা দিয়ে রয়েছেন ৬০ থেকে ৬২ জন করে। দুটি গ্রুপে পয়েন্ট ভিত্তিক এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা প্রতিদিন চারটি করে নৌকা বাইচে অংশ নেবে বলে জানা গেছে। প্রতিটি নৌকায় ঢোলের শব্দ, বৈঠার ছন্দ, আর বাজনার তালে তালে নিজেদের আঞ্চলিক গান গেয়ে খেলোয়ারদের উৎসাহিত করছেন নৌকার মুয়াল্লারা। আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আওয়া দিচ্ছে মাঝি আর মাল্লা।
স্থানীয়দের দাবি প্রতিবছর যাতে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নৌকা বাইচ প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করনে স্থানীয়রা।