পাবনার ঈশ্বরদীতে উপ-নির্বাচনের প্রতিনিধি সভায় আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তা অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

পিপ : পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের উপ নির্বাচনের দলীয় প্রতিনিধি সভায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কেন্দ্রিয় নেতার সামনে আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঈশ্বরদী শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে জেলা যুবলীগ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা ৪ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালসহ আগত অতিথিদের বরণ করতে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ঈশ্বরদী আওয়ামীলীগ নেতারা। এ সময় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সাথে সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক মালিথার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় নেতার সমর্থকরা লাঠি সোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক মালিথাসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হামলার ঘটনায় বিবাদমান দুপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। সংঘর্ষের বিষয়টি তদন্তে করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।
পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, জামাত- শিবির অনুসারীরা আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে একের পর এক অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনার পেছনে তারাই দায়ী বলে দাবী করেন মিন্টু।
আহত সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মালিথা বার্তা সংস্থা পিপ‘কে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়াত নেতা সাবেক ভুমিমন্ত্রী ডিলু ভাইয়ের জামাই আবুল কালাম আজাদ মিন্টু নোংড়ামি করে আসছে। মাঝে মধ্যেই দলীয় কার্যালয়ের একক দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নের্তৃবৃেন্দর সামনেই পরিকল্পিতভাবে পৌর মেয়র এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাগুলো স্বচক্ষেই কেন্দ্রীয় নেতারা দেখেছেন। নিশ্চয়ই তারা এই বিষয়টি তদন্ত করবেন। আমি পৌর মেয়রের শাস্তি দাবী করি। যদি আমি ঘটনার দায়ী হই তাহলে আমার যে শাস্তি দেবেন তা আমি মাথা পেতে নিব।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ধাক্কাধাক্কির ঘটনা থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করি। দফায় দফায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন ছুরিকাহতসহ ২০/২৫ জন আহত হয়েছে। তাদেও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এখ নপর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা দায়ের করেনি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনার পর উদ্ভুত পরিস্থিতি বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তার জের ধরেই এই অনাকাংখিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করেছি। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদেও বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দলীয় ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।