প্রতিদিনই চলছে দখলদারিত্ব ॥ চাটমোহরে পাউবো’র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অবৈধ বাড়ি-ঘর,দোকানপাট ও বাজার!

দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তা অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বাঘলবাড়ি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দখল করে বাজার স্থাপন করা হয়েছে। বাঁধের পাশের জলাশয় দখল করে মাছ চাষ করেছে এলাকার প্রভাবশালীরা। একইসাথে বাঁধের দুই পাশে জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকানপাট.ঘর-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিনই দখল প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বাঘাবাড়ি-নিমাইচড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশে গড়ে উঠেছে পাকা-আধাপাকা শত শত বাড়ি-ঘর,দোকানপাট,বাজার। বছরের পর বছর ধরেই চলছে এই দখলদারিত্বের মহোৎসব। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে রয়েছে নিশ্চুপ। জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ পাউবো’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে চলছে এই দখল বানিজ্য।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়,বাঁধের ভাঙ্গুড়ার রুপসী,নিমাইচড়া,বাঘলবাড়ি ও মান্নাননগর এলাকায় বাজার বসানো হয়েছে। এসকল স্থানে সাপ্তাহিক হাটও বসে। নিমাইচড়া বাজার ও বাঘলবাড়ি বাজার নামের দুইটি স্থানে পাউবোর বাঁধের দুই পাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ২ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। রয়েছে অসংখ্য দোকান,মুরগীর খামার ও বাড়ি। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় দোকানীরা ইচ্ছেমতো বাঁধের পাশে মাটি ফেলে দোকান তৈরি করছে। অনেকেই বললেন স্থানীয় কিছু নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে তারা এই জায়গা পেয়েছেন। বাঘলবাড়ি ও নিমাইচড়া বাজারের কমিটিও রয়েছে,তারাই এসকল দেখভাল করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,পানি উন্নয়ন বোর্ড দখলকারীদের শুধু নোটিশ দিয়েই দায় সেরেছেন। দোকানী,বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বললেন,কেউ কিছু বলেনা,তাই তারা এই জায়গা দখল করে বসবাস করছেন ও ব্যবসা করছেন। কেউ কেউ ৩০/৪০ বছর ধরেই এ জায়গা নিজেদের দখলে নিয়েছেন। তৈরি করেছেন পাকা স্থাপনা।
এ বিষয়ে কথা হয় নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এ এইচ এম কামরুজ্জামান খোকনের সাথে। তিনি বললেন,এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। আমরা এগুলো দেখিনা। যুগ যুগ ধরেই এসকল বাজার বা বাড়ি-ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন সবাই। এগুলোর সকল দায়-দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
চাটমোহর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ আঃ হামিদ মাস্টার বললেন,নিমাইচড়া ও হান্ডিয়াল ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যারা দখল করেছে এবং এলাকার যারা এই দখলে সহায়তা করেছে বা করছে তাদের চিহ্নিত করা দরকার। পাউবো’র দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এর সাথে জড়িত বলে শুনেছি। এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক বলেছেন,দখলকারীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। ইতোমধ্যে কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।