নৌকায় থেকে মাছ শিকার করে জীবন ধারন করা এই শ্রেণীর মানুষগুলোর জীবন বড়ই কঠিন

দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তা অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ নৌকায় বসবাস করে প্রতিনিয়ত এসকল কৃষকশ্রেণীর মানুষেরা তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করেই চলেছে। তাদের জীবন আর কটা মানুষের মতো সহজ না যে অফিস বসে কম্পিউটারে কাজ করা , বা সুন্দর পোশাকাশাক পরে কর্মীদেরকে নেতৃত্ব দেওয়া কিংবা খুব সহজেই একটি কাজের মাধ্যেমে জীবন পরিচালনা করা। তাদের জীবনটা ১২ আনাই কঠিন। একবার যদি একটু ভাবা যায় যে এসকল জেলে , কৃষক , দিনমজুর , সাধারণ শ্রমিক শ্রেণীর মানুষেরা তাদের জীবন জীবিকার তাকিদে কতো কষ্ট , শ্রম, মেহেনত এবং কঠোর মনোবলের মাধ্যেমে রোদে পুরে , বৃষ্টিতে ভিজে , পানিতে থেকে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকছে। শর্ত একটাই নিজেদেরে পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা। দিন শেষে তারা যতই পরিশ্রম করুক না কেন নিজর ঘরে ঢুকে পরিবারের মুখে হাসি দেখলে তাদের সকল ক্লান্ত যেন দুর হয়ে যায়। অথচ এই মানুষগুলোকে কখনও ক্লান্ত দেখা যায়না । দিনের সূর্য উদয়ের পূর্বে তারা কেউ নদীতে নৌকা নিয়ে , কেউবা মাথায় গামছা বেধে ক্ষেতে খামারের দিকে , কেউবা সড়কে সাধারন মানুষের কষ্ট দুর করতে কুলি সেজে আবার কেউবা পাড়ি জমায় সাধারন মানুষের মাঝে একটু কাজের আশায় । এই মানুষগুলোর চাহিদাও খুব বেশি থাকেনা। সারাদিন কাজ করে যদি কিছু অর্থ হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে তাহলেই তারা অনেক খুশি। সব সময়ই তারা সমাজের স্বার্থে, মানুষের প্রয়োজনে, কিংবা নিজের পরিবারের জন্যই কাজ করে যায় অক্লান্তভাবে। জীবনযুদ্ধে অনেক সময় টিকে থাকতে না পেরে এ মানুষগুলো তাদের জীবনের দুঃখ দুর্দসা বোঝাতে চায় চোখে পানি দিয়ে । আবার পরক্ষণে নিজেরাই সব ভুলে স্যার স্যার বলে ওঠে মানুষকে সেবা দিতে। এভাবে তারা সাধারন মানুষের প্রয়োজনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের জীবন জীবিকার মান উন্নয়নের চেষ্টা করে। সেইসাথে দেশের অর্থনৈতিক অংগনে এই কৃষক ও জেলে শ্রেণীর মানুষের অনেক অবদান থাকে সব সময়। কারণ আমাদের দেশটার অর্থনীতি অনেকটাই কৃষিখাতের উপর নির্ভরশীল। তাই তারা প্রতিনিয়ত দেশের উন্নয়নের অনেক অবদান রেখে যাচ্ছে। কিন্তু এসকল মানুষগুলোর এতো অবদানের পরেও তাদেরকে অনেক সময় অপমান কিংবা ছোট হতে হয় সমাজের চোখে। তবুও তারা এ সকল কথা কখনও বুঝে বা না বুঝে হাসি মুখে মেনে নিতে সক্ষম। আজ যদি এ কৃষক , জেলে , দিনমজুর , সাধারণ শ্রমিকেরা আমাদের সমাজের মধ্যে না থাকতো তাহলে আমাদের জীবনটা হয়তো এতো সহজ থাকতোনা। সঠিক সময়ে আমাদের খুদা নিবারনের জন্য ভাত পেতাম না যেটা কৃষকেরা অনেক কষ্ট করে আমাদের কাছে পৌছে দেয় , আবার এত বাহারি রকমের মাছ জেলেরা যদি না শিকার করতো তাহলে সেটা আমাদের আহার হতোনা , সেইসাথে আমাদের দৈনদিন প্রয়োজনে দিনমজুররা যদি আমাদের কাজগুলো টাকার বিনিময়ে না করতো তাহলে আমাদের জীবনটা এতো সহজ গতিতে চলতো না। তাহলে আমাদের দৈনদিন জীবনে খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে অফিস, আদালত , দোকান , বাজার কিংবা সড়ক পথে যারাই আমাদের চলাচল ও কাজ সহজে আমাদের প্রতিনিয়ত সাহায্য করে যাচ্ছে তারাই হলেন এই সুন্দর মনের মানুষগুলো যাদের আমরা অনেক সময় বুঝে বা না বুঝে ভুলভাল কথা বলি অপমান করি। তাদের অবদানের কথাগুলো আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা। মানুষ নাম প্রথম পরিচয় হওয়ায় তাদেরকে আমাদের যথাযথ সন্মান ও মর্যাদাটুকু দিতে হবে। মানুষ আল্লাহর তালার সৃষ্টি সেরা জীব সেহুতু মানুষই পারে মানুষকে ভালোবাসতে , মানুষকে সন্মান দিতে , আবার মানুষকে কাছে টেনে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরতে। সমাজের এ সকল উচু নিচু বৈষম্য দুর করে মানুষই একদিন এই সমাজ থেকে এ সকল ভেদাভেদ দুর করবে। আর এটাই হবে আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া সেরা উপহার। যেটা তারা বুঝে নিয়ে আমাদের সমাজটাকে এবং দেশটাকে সাজাবে আরো সুন্দরভাবে। আমরা মানবজাতি আছি বলেই এ পৃথিবী এতো সুন্দর এতো চমৎকার। দোশ ভুল সকল মানুষের মাঝেই বিদ্যমান। তাই আমরা মানুষেরাই আমাদের সমস্যাগুলো বুঝে সমস্যাগুলো ভুলে একদিন গোড়ে তুলবো এক নতুর পৃথিবী নতুন এক বাংলাদেশ।