সরকারি রুটিন ভ্রমণ পরিহারের নির্দেশ

দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তা অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুটিন ভ্রমণ পরিহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে অপরিহার্য ক্ষেত্রেও সব ধরনের ভ্রমণ ব্যয় অর্ধেক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের কাছে পাঠিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জারিকৃত পরিপত্রে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতসমূহে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে ২০২০-২১ অর্থবছরে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে ভ্রমণ ব্যয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকার বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে— শুধু জরুরি ও অপরিহার্য ক্ষেত্র বিবেচনায় ভ্রমণখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে, তবে সরকারি ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ অর্ধেক ব্যয় দেয়া হবে। পাশাপাশি সকল প্রকার রুটিন ভ্রমণ পরিহার করতে হবে।
এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয় পরিপত্রে।
জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যয় বেড়ে গেছে সরকারের। এজন্য সরকার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নতুন গাড়ি কেনায় সস্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে চলতি অর্থবছর বাস্তবায়নাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নিম্ন অগ্রাধিকার বা কম গুরুত্বপূর্ণ এবং মধ্যম অগ্রাধিকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ খরচ বন্ধেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রতি অর্থবছরে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয় দুই হাজার কোটি টাকা। এ অর্থ অনেক সময় অনেক প্রতিষ্ঠান যৌক্তিকভাবে খরচ করতে পারে না। সেজন্য কোনো এক ছুতোয় সরকারি টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করেন প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা। এজন্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতায় এবার রুটিন বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো।