হুমকিতে জীব বৈচিত্র্য ॥ চাটমোহরে শামুক নিধনের মহোৎসব

দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তা অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

চাটমোহর প্রতিনিধি ॥ পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে শামুক নিধনের মহোৎসব চলছে। ফলে হুমকিতে পড়েছে জীব বৈচিত্র্য। বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। অবাধে শামুক নিধনের ফলে কৃষি জমির উর্বরতা শক্তিও কমে যাচ্ছে। প্রতিদিন বিল ও নদী পাড়ের মানুষ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ডিঙি নৌকাসহ পায়ে হেঁটে বিল,নদী ও প্লাবিত ফসলি জমি থেকে শামুক সংগ্রহ করছে।
চলনবিল অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর সর্বত্র চলছে শামুক নিধন। চলনবিল,খলিশাগাড়ি বিল.বিল কুড়ালিয়া,আফরার বিল,হান্ডিয়াল বিল.নলডাঙ্গা বিল,ডিকশি বিল,বগা বিলসহ গুমানী ও বড়াল নদীর পাড়ে ব্যাপকহারে শামুক নিধন চলছে। ফসলের ক্ষেতে পানি,পানিতে শামুক। বিশেষ করে ধানের জমিতে প্রচুর শামুক। শামুক সংগ্রহ করছে কৃষক পরিবারের সদস্যরা। নারী-পুরুষ,শিশু-কিশোররা প্রতিদিন নৌকায় করে ফসলের জমি থেকে শামুক সংগ্রহ করে বিক্রি করছে। বিকেলের বিভিন্ন সড়কের পাশে শামুক বিক্রি করা হয়। সন্ধ্যায় ট্রাক যোগে শামুক চলে যায় যশোর,খুলনা আর বাগেরহাটে। প্রতি বস্তা শামুক বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়। শামুক যাচ্ছে চিংড়ি ঘেরে। প্রতিদিন চলনবিলের ৮/১০টি পয়েন্ট থেকে কমপক্ষে ৭ ট্রাক শামুক যাচ্ছে খুলনা ও বাগেরহাটের মোকামে। প্রতিদিন শামুক নিধনের ফলে জীব বৈচিত্র্য হুমকিতে পড়েছে। বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। দিন দিন জমির উর্বরতা শক্তিও কমে যাচ্ছে বলে কৃষিবিদরা জানান। উপজেলার ধানকুনিয়া গ্রামের আবেদ আলী,মনসুর রহমান,আলেয়া খাতুনসহ অন্যরা জানান,তারা বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে স্থানীয় ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করেন। আষাঢ় থেকে আশি^ন মাস পর্যন্ত চলে এই শামুক সংগ্রহ। নারী-পুরুষ ও শিশুরা প্রতিদিনই বিল ও প্লাবন ভূমি থেকে শামুক সংগ্রহ করছে। শামুকের স্থানীয় ব্যাপারী জগদীশ চূর্ণকার জানালেন,প্রতিদিন শতাধিক বস্তা শামুক তিনি বাগেরহাট,যশোর অথবা খুলনা পাঠান। প্রতিদিন শত শত বস্তা শামুক নিধন করা হলেও এ বিষয়ে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান,শামুক নিধন প্রতিরোধে তাদের কোন আইন প্রয়োগ করার বিধান নেই। এজন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকতেষারুল ইসলাম বললেন,এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।